নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার, ১৫:৫৪:২০

ফাইভ-এ-সাইড বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় যুব হকি দল। বাংলাদেশের যুব হকির জন্য নিঃসন্দেহে এটি আনন্দের খবর, একই সঙ্গে নতুন একটি অর্জনও। বড় পরিসরের হকিতে আন্তর্জাতিক সাফল্যের অপেক্ষার মাঝেই ফাইভ-এ-সাইডের বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া দেশের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য তৈরি করেছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।
গত জুলাইয়ে ওমানের রাজধানী মাসকাটে অনুষ্ঠিত ফাইভ-এ-সাইড এশিয়া কাপে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ দল। এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টটি শুধু মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ছিল না, একই সঙ্গে ছিল ফাইভ-এ-সাইড বিশ্বকাপের বাছাইপর্বও।
মাসকাটের সেই টুর্নামেন্টে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার সুযোগ ছিল তিনটি দলের। বাংলাদেশ সরাসরি সেই তিন দলের মধ্যে জায়গা করে নিতে না পারলেও ছিল প্রথম স্ট্যান্ডবাই দল হিসেবে। অর্থাৎ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর তালিকায় কোনো পরিবর্তন হলে বাংলাদেশের সামনে খুলে যেতে পারত বিশ্বকাপের দরজা।
সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে সম্প্রতি। আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন (এফআইএইচ) থেকে বাংলাদেশকে ফাইভ-এ-সাইড বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে স্ট্যান্ডবাই তালিকা থেকে এবার বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম।
এটি বাংলাদেশের যুব হকির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের এমন সুযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বড় মাঠের হকির পাশাপাশি ফাইভ-এ-সাইড সংস্করণে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া এবং বিশ্বমানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের খেলোয়াড় তৈরির ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।
ফাইভ-এ-সাইড হকি বড় মাঠের হকির তুলনায় আলাদা। ছোট মাঠে কমসংখ্যক খেলোয়াড় নিয়ে দ্রুতগতির এই সংস্করণে মুহূর্তের মধ্যে আক্রমণ থেকে রক্ষণে এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে যেতে হয়। ফলে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, বল নিয়ন্ত্রণ এবং শারীরিক সক্ষমতার বড় পরীক্ষা হয়। বাংলাদেশের তরুণদের সামনে এবার সেই পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে বিশ্বমঞ্চে।
বাংলাদেশের যুব হকির নতুন এই বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে বছরের শেষ দিকে। আগামী ৭ থেকে ১২ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মিসরের ইসমাইলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ফাইভ-এ-সাইড বিশ্বকাপ।
মাসকাটে এশিয়া কাপ খেলার পর বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশের তরুণ হকি খেলোয়াড়দের জন্য তাই এটি হতে যাচ্ছে আরও বড় অভিজ্ঞতার মঞ্চ। এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেরা যুব দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ মিলবে তাদের।
বাংলাদেশ সরাসরি বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে না পারলেও প্রথম স্ট্যান্ডবাই দল হিসেবে অপেক্ষায় ছিল। শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে সেই অপেক্ষারই অবসান হয়েছে।
এখন বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য একটাই—বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দেওয়া। এশিয়া কাপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারলে বাংলাদেশের যুব হকির এই নতুন অধ্যায়টি হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
Rent for add