• ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কোরিয়ার কাছে হার দিয়ে শুরু

আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে পুরুষ হকিতে বাংলাদেশের শুরুটা হলো হার দিয়ে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হেরেছে লাল-সবুজের দল। র‍্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা কোরিয়ার বিপক্ষে অবশ্য প্রথম কোয়ার্টার পর্যন্ত নিজেদের রক্ষণ অটুট রেখে আশার আলো জ্বালিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে খেলা।

গেমসের মূল শহর নাগোয়া থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে গিফু হকি স্টেডিয়ামে আজ মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া। শুরু থেকেই কোরিয়া বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশ প্রথম কোয়ার্টারে বেশ সংগঠিতভাবেই প্রতিরোধ গড়ে তোলে। গোলের সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও রক্ষণ সামলে গোলশূন্য অবস্থায় প্রথম ১৫ মিনিট শেষ করতে পারাটাই ছিল বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির।

দ্বিতীয় কোয়ার্টারে অবশ্য বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। বাংলাদেশের রক্ষণে একের পর এক চাপ তৈরি করতে থাকে কোরিয়া। ডিফেন্সের ভুলের সুযোগ নিয়ে এই কোয়ার্টারেই দুই গোল আদায় করে নেয় এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি। গোল হজমের পর বাংলাদেশও আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে। একাধিকবার কোরিয়ার রক্ষণে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তের সমন্বয় ও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পায়নি লাল-সবুজের দল।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে দ্বীন ইসলাম ইমনের স্টিকে। কোরিয়ার গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। গোল করার দারুণ সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন মিমোও। এমন সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের চিত্র হয়তো কিছুটা বদলাতে পারত।

জাতীয় দলে দীর্ঘদিন পর ফেরা রাসেল মাহমুদ জিমিও এ ম্যাচে নিজের সামর্থ্যের ছাপ সেভাবে রাখতে পারেননি। অভিজ্ঞ এই খেলোয়াড়ের কাছ থেকে বাংলাদেশের আক্রমণভাগে বাড়তি গতি ও সৃজনশীলতা প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু কোরিয়ার সংগঠিত রক্ষণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

দুই গোলের পিছিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে নামার পর বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কোরিয়ার ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে সেই চেষ্টা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তৃতীয় কোয়ার্টারে আরও দুই গোল করে ব্যবধান ৪-০ করে ফেলে দক্ষিণ কোরিয়া। তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরিই তাদের হাতে।

শেষ কোয়ার্টারে ব্যবধান কমানোর জন্য বাংলাদেশ কয়েকটি আক্রমণ সাজালেও কাঙ্ক্ষিত গোলটি আর আসেনি। বরং ম্যাচের শেষ দিকে আরও একটি গোল হজম করে লাল-সবুজের দল। শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

র‍্যাঙ্কিং ও শক্তির বিচারে কোরিয়া বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তাই ম্যাচের শুরুতে গোলশূন্য থাকা এবং প্রথম কোয়ার্টার পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক হয়ে থাকছে। তবে পরের তিন কোয়ার্টারে রক্ষণে ভুল, সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা এবং আক্রমণে ধারাবাহিকতার অভাবই বড় ব্যবধানের হারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে বাংলাদেশের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। প্রথম ম্যাচের ভুলগুলো দ্রুত শুধরে নিয়ে পরের ম্যাচগুলোতে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিতে হবে লাল-সবুজের দলকে।

Rent for add