• ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

ইউরোপীয় ধাঁচে স্বপ্ন বুনছে বাংলাদেশ হকি

জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ডের অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল। মাওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, এশিয়ান গেমসকে ঘিরে লক্ষ্য এবং ইউরোপীয় হকির আদলে দল গড়ে তোলার রূপরেখা তুলে ধরেন। সীমিত সময়ের মধ্যেই একটি প্রতিযোগিতামূলক দল গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জকে তিনি ‘মিশন ইম্পসিবল’ বা অসম্ভব অভিযান হিসেবে উল্লেখ করলেও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা দেন—‘আমরা এই অসম্ভবকেই সম্ভব করব।’

আসন্ন এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে হাতে রয়েছে মাত্র চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ। এত অল্প সময়ে আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি নেওয়া সহজ নয়—এ কথা স্বীকার করেই গেরহার্ড বলেন, কঠোর পরিশ্রম, সঠিক পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা থাকলে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না। তাঁর বিশ্বাস, সময় কম হলেও সুশৃঙ্খল প্রস্তুতির মাধ্যমে দলকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশ হকির উন্নয়নে ইউরোপীয় মডেল অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন জার্মান এই কোচ। তাঁর মতে, আধুনিক হকির গতি, কৌশল এবং ম্যাচের তীব্রতা গত এক দশকে আমূল বদলে গেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারায় এশিয়ার অনেক ঐতিহ্যবাহী দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিছিয়ে পড়ছে। অন্যদিকে ইউরোপের দলগুলো আধুনিক কৌশল, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং পেশাদার লিগ কাঠামোর মাধ্যমে নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।

নিজের বক্তব্যের পক্ষে গেরহার্ড অতীত ও বর্তমানের একাধিক উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১২ সালে আর্জেন্টিনা তাদের পুরো জাতীয় দলকে জার্মানিতে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় অনুশীলন করায়। সেখানে তারা জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও স্পেনের ক্লাবগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত ম্যাচ খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করে। সেই প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে আর্জেন্টিনা ইতিহাস গড়ে স্বর্ণপদক জিতে নেয়।

গেরহার্ড আরও জানান, বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দেশগুলোও তাদের খেলোয়াড়দের উন্নয়নের জন্য ইউরোপকেই বেছে নিচ্ছে। এমনকি এশিয়ার দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়াও তাদের সেরা খেলোয়াড়দের জার্মানি ও ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার সুযোগ করে দিচ্ছে, যাতে তারা আধুনিক হকির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে।

এই বাস্তবতা থেকেই বাংলাদেশ দলের জন্যও একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জার্মানিতে একটি নিবিড় অনুশীলন ক্যাম্প আয়োজনের কথা জানান গেরহার্ড। ক্যাম্প চলাকালে বাংলাদেশ দল ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ক্লাব ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একাধিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। ক্যাম্পের শেষ পর্যায়ে বর্তমান জার্মান চ্যাম্পিয়ন ক্লাবের বিপক্ষেও মাঠে নামার পরিকল্পনা রয়েছে।

জার্মান কোচের ভাষায়, “ইউরোপের খেলার ধরণ সম্পূর্ণ আলাদা। আমি চাই বাংলাদেশ দল সেই শৈলী আয়ত্ত করুক। যদি আমরা ইউরোপীয় গতিময়তা, কৌশল এবং ম্যাচ ম্যানেজমেন্ট নিজেদের খেলায় যুক্ত করতে পারি, তাহলে এশিয়ান গেমসে প্রতিপক্ষ দলগুলো আমাদের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।”

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনও মনে করছে, বিদেশি কোচের অভিজ্ঞতা, ইউরোপকেন্দ্রিক প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক মানের অনুশীলন ক্যাম্প জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে নতুন মাত্রা যোগ করবে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতামূলক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ হকি।

Rent for add