নিজস্ব প্রতিবেদক : ৩০ আগস্ট ২০২৬, রবিবার, ০:৪৮:০৫

বাংলাদেশের যুব হকির সামনে আবারও বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ। চীনে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-২০ জুনিয়র এশিয়া কাপে অংশ নিতে ঢাকা ছেড়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ ও নারী হকি দল। এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে লড়াইয়ের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও নিবিড় প্রস্তুতি নিয়েছে দুই দলই। পুরুষ ও নারী—দুই দলেই রয়েছে বিদেশি কোচিং স্টাফ। নিজেদের সেরাটা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা উঁচুতে তুলে ধরার প্রত্যয় নিয়েই চীনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে তরুণ হকি খেলোয়াড়রা।
গত বছর বাংলাদেশের যুব হকি প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে পা রাখে। অনূর্ধ্ব-২১ যুব বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। সেই আসরে বাংলাদেশের হয়ে নজর কাড়েন আমিরুল ইসলাম। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। বাংলাদেশের হকির জন্য সেটি ছিল এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। বিশ্বমঞ্চে অভিষেকের সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার এশিয়ার সেরা দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার লক্ষ্য বাংলাদেশের যুব দলের।
বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ দলের সামনে রয়েছে আরও বড় লক্ষ্য। এবারের যুব এশিয়া কাপ বাছাইয়ে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করতে পারলেই এশিয়া কাপের মূল আসরে খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। ফলে প্রতিটি ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান নিশ্চিত করতে মরিয়া তরুণরা।

তবে শুধু পুরুষ দল নয়, নারী দল নিয়েও আশাবাদী বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও অনুশীলনের মধ্য দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে নারী দলটিকেও। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের লক্ষ্য নিয়ে চীনের মাটিতে নামবে বাংলাদেশের মেয়েরা।
দুই দলের চীনযাত্রার আগে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘ওয়ান টিম, ওয়ান ড্রিম, ওয়ান বাংলাদেশ’। এই স্লোগানকে সামনে রেখে শুরুতেই বাংলাদেশের হকির ঐতিহ্য, খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম এবং মাঠের প্রস্তুতির বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরা হয় একটি চমৎকার ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা তরুণ খেলোয়াড়দের দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে চীনের মিশনে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ ও নারী দলের সাফল্য কামনা করেন তারা। তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস জোগানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
এ সময় বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় তিন প্রতিষ্ঠান—ব্র্যাক ব্যাংক, আমিষে লিমিটেড ও এইস ডেভেলপারস—চুক্তিবদ্ধ হয়। যুব হকির উন্নয়ন ও জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পথচলায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর এই সম্পৃক্ততাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর জমকালো আয়োজনে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ও পুরুষ জাতীয় হকি দলের স্কোয়াড ও খেলোয়াড়দের আনুষ্ঠানিকভাবে মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় গ্রুপ ফটো সেশন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দুই দলের অধিনায়কের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
জাতীয় পতাকা হাতে চীনের পথে যাত্রা করা তরুণদের চোখে এখন একটাই স্বপ্ন—আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করা। গত বছরের বিশ্বকাপ অভিষেকের স্মৃতি ও আমিরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সাফল্যকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে এবার এশিয়ার মঞ্চে নতুন ইতিহাস গড়তে চায় বাংলাদেশের যুব হকি।
Rent for add