• ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬

এশিয়ান গেমসের আগে জার্মানিতে কন্ডিশনিং ক্যাম্প

এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের প্রস্তুতি এখন পুরোদমে চলছে। কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের লক্ষ্যে ঢাকার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে চলছে আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। সকাল-বিকেল কঠোর অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা। নতুন কোচের অধীনে আধুনিক ইউরোপীয় কৌশল ও ট্যাকটিকস রপ্ত করার পাশাপাশি দলকে শারীরিক ও মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলতে চলছে নিবিড় প্রস্তুতি।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকায় চলমান ক্যাম্পে থাকা ২৪ খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে ২০ জনকে জার্মানির কন্ডিশনিং ক্যাম্পের জন্য নির্বাচিত করার কথা ছিল। তবে খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং এশিয়ান গেমসের আগে দলের শক্তিমত্তা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। শেষ পর্যন্ত ক্যাম্পে থাকা ২৪ খেলোয়াড়কেই জার্মানিতে প্রায় এক মাসের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সিলেকশন কমিটির চেয়ারম্যান সাজেদ এ এ আদেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর মতে, বিদেশের মাটিতে উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের আরও পরিণত করে তোলাই এই কন্ডিশনিং ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা, গতি, দক্ষতা ও ম্যাচ টেম্পো বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নতুন কোচের অধীনে নতুন আবহ

ঢাকায় চলমান জাতীয় দলের ক্যাম্প ঘিরে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি উদ্দীপনা। জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ডের অধীনে প্রতিদিনই অনুশীলনে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন কৌশল। ইউরোপীয় ধাঁচের হকির সঙ্গে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মানিয়ে নেওয়ানোর পাশাপাশি মাঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, বলের দখল ধরে রাখা, আক্রমণ সংগঠিত করা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় দলের সিনিয়র ক্যাম্পেইনার মাইনুল ইসলাম কৌশিক মনে করেন, এবারের ক্যাম্পটি আগের তুলনায় বেশ কার্যকর ও ফলপ্রসূ হচ্ছে। নতুন কোচের অধীনে প্রতিদিনই খেলোয়াড়েরা নতুন কিছু শিখছেন।

কৌশিক বলেন, “অনুশীলন খুবই ভালো হচ্ছে। নতুন কোচের অধীনে আমরা প্রতিদিন নতুন নতুন টেকনিক ও ট্যাকটিকস শিখছি। ইউরোপীয় স্টাইলের হকির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। কোচ যেভাবে পরিকল্পনা করছেন, আমরা সেভাবেই অনুশীলনে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।”

গোল স্কোরিংয়ে বাড়তি নজর

বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক দুর্বলতার জায়গাগুলোর অন্যতম গোল করার সুযোগ কাজে লাগানো। আন্তর্জাতিক ম্যাচে আক্রমণে ভালো অবস্থান তৈরি করলেও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত গোল না পাওয়ায় ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। এবারের ক্যাম্পে তাই গোল স্কোরিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন কোচ পিটার গেরহার্ড।

পেনাল্টি কর্নারকে গোলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে গড়ে তুলতেও চলছে আলাদা অনুশীলন। পেনাল্টি কর্নার আদায় থেকে শুরু করে সেটিকে গোলে পরিণত করার কৌশল, রিবাউন্ড কাজে লাগানো এবং বক্সের ভেতর দ্রুত ফিনিশিং—সবকিছু নিয়েই চলছে নিবিড় কাজ।

বিশেষ করে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে প্রবেশের পর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং অল্প সময়ের মধ্যে গোলের সুযোগ তৈরি ও কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি মিডফিল্ডারদেরও গোল তৈরির প্রক্রিয়ায় আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে কোচিং স্টাফের।

জার্মানিতে হবে আসল পরীক্ষা

ঢাকার ক্যাম্পকে জার্মানির কন্ডিশনিং ক্যাম্পের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ দল। ঢাকায় খেলোয়াড়দের প্রাথমিকভাবে বাছাই ও প্রস্তুত করার পর জার্মানিতে প্রায় এক মাসের ক্যাম্পে শারীরিক সক্ষমতা, কৌশলগত দক্ষতা ও দলীয় সমন্বয়ের ওপর আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জার্মানিতে উন্নত প্রশিক্ষণ পরিবেশে অনুশীলনের পাশাপাশি ইউরোপীয় দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগও কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে নিজেদের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করে সেগুলো সংশোধনের সুযোগ মিলবে বলে মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

২৪ খেলোয়াড়কে জার্মানিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তে দলের জন্য প্রস্তুতির পরিধিও বাড়ছে। এতে একদিকে যেমন প্রতিটি খেলোয়াড় উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে কোচিং স্টাফের কাছেও পুরো স্কোয়াডকে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে।

লক্ষ্য এশিয়ান গেমসে নিজেদের সেরাটা দেওয়া

এশিয়ান গেমসে ভালো করার জন্য প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চায় না বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ঢাকার ক্যাম্পের পর জার্মানিতে কন্ডিশনিং ক্যাম্প আয়োজন করা হচ্ছে। শারীরিক সক্ষমতা, আধুনিক ট্যাকটিকস, গোল স্কোরিং এবং ম্যাচ পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা—সব দিকেই উন্নতি করতে চায় দল।

ঢাকার ক্যাম্পে এখন সেই প্রস্তুতিরই প্রথম ধাপ চলছে। সামনে জার্মানির কন্ডিশনিং ক্যাম্প, এরপর আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে এশিয়ান গেমসের মূল মঞ্চে নামবে বাংলাদেশ। নতুন কোচের ইউরোপীয় দর্শন, দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং খেলোয়াড়দের বাড়তি পরিশ্রম—সব মিলিয়ে এবার এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হকি দল কতটা বদলে যেতে পারে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

Rent for add