• ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লড়াই করে হারলো মালয়েশিয়ার কছে

এশিয়ান গেমসে অভিষেকটা হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে ১৩ গোল হজম করে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় নারী হকি দলকে। তবে সেই ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় ম্যাচেই বদলে গেল বাংলাদেশের চেহারা। এবার আর একতরফা আত্মসমর্পণ নয়, শক্তিশালী মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেই হারল অর্পিতারা।

জাপানের আইচি-নাগোয়ায় ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-১ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের ফল বাংলাদেশের পক্ষে না এলেও মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক হকি খেলতে থাকে। তবে অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে দীর্ঘদিনের পথচলায় এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়া ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। বাংলাদেশের রক্ষণভাগেও তৈরি হয় চাপ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়া গোল আদায় করে নেয়।

তবে গোল হজম করেও ভেঙে পড়েনি বাংলাদেশ। বরং আক্রমণে ফেরার চেষ্টা করেছে, প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করেছে। সেই প্রচেষ্টারই ফল আসে কনা আক্তারের গোলে। তাঁর গোলে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরার বার্তা দেয় বাংলাদেশ।

এরপর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বাড়ে। মালয়েশিয়া নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করে। বাংলাদেশও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ খুঁজতে থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতার কাছে লড়াইটা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। আরও গোল করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় তারা।

শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মালয়েশিয়া। অন্যদিকে হারলেও বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি হয়ে থাকে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার উপলক্ষ। অভিষেক ম্যাচে চীনের বিপক্ষে ১৩-০ গোলের বড় হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই শক্তিশালী মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাত্র দুই গোলের ব্যবধানে হার বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিশেষ করে কনা আক্তারের গোলটি বাংলাদেশের জন্য ছিল স্বস্তির। এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে নিজেদের প্রথম গোল পাওয়ার পাশাপাশি সেটি দলকে ম্যাচে ফেরার আত্মবিশ্বাসও জুগিয়েছে।

ফলাফল বলছে বাংলাদেশ হেরেছে, কিন্তু পারফরম্যান্সের গল্পটা ছিল ভিন্ন। চীনের বিপক্ষে যে দলটি ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের চাপে ছিল, মালয়েশিয়ার বিপক্ষে সেই দলই অনেক বেশি সংগঠিত ও লড়াকু। এশিয়ান গেমসে প্রথমবার অংশ নেওয়া বাংলাদেশের নারী হকি দলের জন্য এই অভিজ্ঞতাই হয়ে উঠছে বড় প্রাপ্তি।

সামনে আরও ম্যাচ রয়েছে। তাই প্রথম দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রক্ষণ আরও শক্ত করা, আক্রমণে কার্যকারিতা বাড়ানো এবং সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে পরের ম্যাচগুলোতে আরও ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার সুযোগ থাকবে অর্পিতাদের সামনে।

Rent for add